1. admin@baghasylhet.com : admin :
সিলেটের বন্যায় হাওরের অবকাঠামো না তিস্তা ব্যারেজ দায়ী? - দৈনিক বাঘা সিলেট
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা গোলাপগঞ্জে বাঘায় শিশুকে বলৎকার করে ভিডিও ফেইসবুকে : ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা গোলাপগঞ্জে স্কুল ছাত্রীকে ইভটিজিং করার অভিযোগে যুবক আ.ট.ক, অ.র্থ.দ.ন্ড বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার নব-গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহিদুর রাহমান চৌধুরী জাবেদ। ৮০ হাজার টাকায় ২ সন্তানকে বিক্রি, মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলেন ওসি রাজাগঞ্জে নাজিম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন গোয়াইনঘাটে খুনের ঘটনায় মূল আসামিসহ আটক ১২ গোয়ানইঘাটে যুবককে জবাই করে হত্যা : ঘরে আগুন গোলাপগঞ্জে বিজিএফ এর চাল নিয়ে চালবাজি। দায়সারা বক্তব্য ইউএনও এর টানা তাপদাহে বিপর্যস্ত সিলেটের জনজীবন পটুয়াখালীর দুমকীতে পারিবারিক বিরোধে কুপিয়ে জখম রাজাগঞ্জে নিখোঁজের পরদিন ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার সিলেটে ৩ মাসের জন্য স্থগিত কিস্তি আদায় কোরবানির এক টুকরো মাংস জোটেনি যে গ্রামে ঈদে আশানুরূপ পর্যটক নেই সাদা পাথরে, হতাশ ব্যবসায়ীরা

সিলেটের বন্যায় হাওরের অবকাঠামো না তিস্তা ব্যারেজ দায়ী?

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২

 

সিলেট-সুনামগঞ্জ গত দুই মাসের মধ্যে তিন দফা বন্যা কবলে পড়েছে । তবে এবারের বন্যা খুব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রশ্ন থেকে যায়,সিলেটে কেন এত ঘন ঘন বন্যা? গবেষকরা কি বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণেই এই বন্যা।নাকি এর বাইরেও অন্য কোনো কারণ আছে।

এবারের বন্যা এত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেল স্টেশন, এয়ারপোর্ট সবই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।এমন কি মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিলো না।সম্পূর্ণ সিলেট শহর এখন পানির নিচে। এখন পযন্ত অন্তত ৪০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুৎহীন সিলেট-সুনামগঞ্জের মানুষ পুরো নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন। সুনামগঞ্জ পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, সামাল দিতে সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে নামাতে হয়েছে।

প্রশ্ন আসতে পারে এই বন্যার জন্য দায়ী কারা?

হাওরে অবকাঠামো নির্মাণ, অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন, নদীর তলদেশ পলিমাটিতে ভরে যাওয়া, পুকুর-খাল ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়াকেই দায়ী করছেন গবেষকরা । তবে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ হাওরের অবকাঠামো এর জন্য দায়ী বলে মনে করেন না।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটেরঅধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন,সিলেট বিভাগে বন্যা এতটা তীব্রতা হওয়ার কারণ, পানি নামতে বাধা পাচ্ছে। কারণ হাওরে নানা ধরণের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করছে।এই অঞ্চলের পানি হাওর হয়ে নদী দিয়ে নেমে যায়। শুধু এই অবকাঠামো নয়, পাশাপাশি নদী নাব্যতা হারিয়েছে। এতে পানি দ্রুত সরতে পারছে না। ”

তবে ইমেরিটাস অধ্যাপক এবং পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, এটা একেবারেই স্বাভাবিক বন্যা। এই বন্যার সঙ্গে হাওরের অবকাঠামোর কোন দায় নেই। এখন যে বন্যাটি হয়েছে এটা হয়ত দুই সপ্তাহ আগে হয়েছে। এটা দুই সপ্তাহ পরে হতে পারত। অনেক সময় স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি বৃষ্টি হলেই বন্যার সৃষ্টি হয়। এবারও তাই হয়েছে। কয়েক বছর পরপরই এটা হয়ে থাকে। এর সঙ্গে অন্য কিছু মেলানো ঠিক না। তবে হ্যাঁ, জলবায়ু পরিবর্তনের দায় কিছুটা আছে।

আজ(শনিবার) বৃষ্টিতে সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বেগে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে অনেক উঁচু এলাকাতেও পানি ঢুকে পড়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১টার মধ্যে নতুন করে শহরের অন্তত ২৫টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে এসব স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। গত বুধবার তৃতীয় দফায় বন্যা শুরু হওয়ার পর সুরমা নদীর পানি উপচে নগরের অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। রেল স্টেশনও বন্ধ করা হয়েছে।

পানি গবেষণা ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যানপ্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, এবারের এইরকম আকস্মিক বন্যার পিছনে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে অতিবৃষ্টি একটি বড় কারণ। হাওরের অবকাঠামোর এক্ষেত্রে কোন ভূমিকা আছে বলে আমার মনে হয় না। গত তিনদিন চেরাপুঞ্জিতে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে, ২ হাজার ৪৮৭ মিলিমিটার, এখনো সেখানে বৃষ্টি হচ্ছে। এরকম ধারাবাহিক বৃষ্টি হয়েছে ১৯৯৫ সালে একবার, তিনদিনে ২ হাজার ৭৯৮ মিলিমিটার আর ১৯৭৪ সালে ২ হাজার ৭৬০ মিলিমিটার। এরকম খুব কম দেখা গিয়েছে। হাওরের অবকাঠামো যদি পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করত তাহলে ভৈরব ব্রিজটিই হতো মূল কারণ। সেটা তো পানি প্রবাহে কোন বাধার সৃষ্টি করছে না, তাহলে হাওরের এগুলো আসবে কেন?

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম মনে করেন, হঠাৎ এই বন্যার পেছনে চেরাপুঞ্জির প্রবল বৃষ্টিপাত প্রধান কারণ।তবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে আবহাওয়া-জলবায়ু বা বৃষ্টির ধরন বদলে গিয়েছে। এখন বৃষ্টি হলে অনেক বেশি গভীর বৃষ্টি হয়। চেরাপুঞ্জিতে যখন বৃষ্টি হয়, সেটা ছয় থেকে আট ঘণ্টার ভেতরে তাহিরপুরে চলে আসে। কিন্তু সেখানে এসে পানি তো আর দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে তখন সেটা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে বন্যার তৈরি করছে। বিশেষ করে ভারতের উজানে পাথর উত্তোলনের ফলে মাটি আলগা হয়ে নদীতে চলে আসে। ফলে নদীর তলদেশ ভরে যায়। সেখানে নাব্যতা সংকট তৈরি হচ্ছে। সেখানে গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নদীগুলো ঠিকমতো ড্রেজিং না হওয়া, ময়লা-আবর্জনায় নদীর তলদেশ ভরে যাওয়া, ঘরবাড়ি বা নগরায়নের ফলে জলাভূমি ভরাট হয়ে যাওয়াও এর জন্য দায়ী। হাওরে বিভিন্ন জায়গায় পকেট আমরা রোধ করে ফেলেছি। ফলে পানি প্রবাহে বাধার তৈরি হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি আরও দু-তিন দিন ধরে অবনতি হতে পারে। উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কা আছে, কারণ, উজানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও বৃষ্টি চলছে।

বন্যার পানি নামতে কী কোথাও বাধার সৃষ্টি হচ্ছে? জানতে চাইলে জনাব ভূঁইয়া বলেন, পানি স্বাভাবিকভাবে নামছে না, এটা আমাদের মনে হয়েছে। কিন্তু কেন নামতে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে, সেটা আমি বলতে পারব না। এর কারণ নির্ধারণে মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটা কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটির রিপোর্ট পেলেই জানা যাবে কোথায় এই বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের মেঘালয় ও আসামে বৃষ্টি হলে বাংলাদেশে উজান থেকে পানি আসা বন্ধ হবে না। সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির আশা নেই। দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আগামী দুই দিনের মধ্যে আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ বলছে, সিলেট বিভাগের বন্যা এর আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। উজান থেকে আসা ঢলে এই বিভাগের বেশির ভাগ এলাকা এখন পানির নিচে। সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ নেই, সুপেয় পানি নেই, মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক নেই। মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 Bagha Sylhet
Theme Customized By Shakil IT Park