1. admin@baghasylhet.com : admin :
কোরবানির এক টুকরো মাংস জোটেনি যে গ্রামে - দৈনিক বাঘা সিলেট
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা গোলাপগঞ্জে বাঘায় শিশুকে বলৎকার করে ভিডিও ফেইসবুকে : ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা গোলাপগঞ্জে স্কুল ছাত্রীকে ইভটিজিং করার অভিযোগে যুবক আ.ট.ক, অ.র্থ.দ.ন্ড বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার নব-গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহিদুর রাহমান চৌধুরী জাবেদ। ৮০ হাজার টাকায় ২ সন্তানকে বিক্রি, মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলেন ওসি রাজাগঞ্জে নাজিম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন গোয়াইনঘাটে খুনের ঘটনায় মূল আসামিসহ আটক ১২ গোয়ানইঘাটে যুবককে জবাই করে হত্যা : ঘরে আগুন গোলাপগঞ্জে বিজিএফ এর চাল নিয়ে চালবাজি। দায়সারা বক্তব্য ইউএনও এর টানা তাপদাহে বিপর্যস্ত সিলেটের জনজীবন পটুয়াখালীর দুমকীতে পারিবারিক বিরোধে কুপিয়ে জখম রাজাগঞ্জে নিখোঁজের পরদিন ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার সিলেটে ৩ মাসের জন্য স্থগিত কিস্তি আদায় কোরবানির এক টুকরো মাংস জোটেনি যে গ্রামে ঈদে আশানুরূপ পর্যটক নেই সাদা পাথরে, হতাশ ব্যবসায়ীরা

কোরবানির এক টুকরো মাংস জোটেনি যে গ্রামে

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০২২

 

কোরবানির এক টুকরো গোস্ত জোটেনি যে গ্রামে

কোরবানির ঈদ মানে ত্যাগ ও মহিমা। এই ঈদে মানুষের খুশি সীমা থাকে না, তেমনি বাঁধভাঙা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের কোনো কমতি থাকে না। তবে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে।

এ বছর কুড়িগ্রামের বন্যায় বিধস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ঈদের আনন্দ তো দূরে কথা, সন্তানদের মুখে এক টুকরো কোরবানির মাংস তুলে দিতে পারেননি সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার দক্ষিণ ভগপতিপুর গ্রামের প্রায় ১৫০টি পরিবারের মানুষজন।

অভাবের তাড়না, তার এবার ভয়াবহ বন্যায় কেড়ে নিয়েছে সবকিছু। তাই এবারের ঈদের আনন্দটুকুও সেখানে পৌঁচ্ছায় নাই । তবে এদিনে একটু মাংস খেতে চাওয়া বা পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা তাদের চোখেমুখে ছিল, তা না দেখলে কারোরই বিশ্বাস হবে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপের মতো দেখতে একটি গ্রাম দক্ষিণ ভগবতীপুর। চারদিকে থইথই করচ্ছে পানি। অগোছালো কয়েকটি বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে পানির ওপর। এই গ্রামে নৌকা ছাড়া যাওয়ার কোনো উপায় নেই। আর এই গ্রামে রয়েছে ১৫০টি পরিবারের আশ্রয়ের ঠিকানা ও একটি গুচ্ছগ্রামও। ওই গ্রামটিতে কোনো নৌকা ভিড়লেই ছুটে আসছে গ্রামটির শিশু-কিশোর-বৃদ্ধরা। তারা হয়তো ভাবছেন কেউ ত্রাণ নিয়ে এসেছে।

ঈদের কোনো খুশি নেই তাদের মনে,যে খানে দু মুঠো ডাল ভাত খেতে পারচ্ছে না মানুষ,তাদের চোখেমুখে যেন হতাশার ছাপ। যে মানুষগুলোর চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় তাদের আর্তনাদ। ঈদ যেন তাদের জীবন থেকে চলে গেছে। অন্যান্যবার ঈদের আগ থেকে প্রস্তুতি থাকলেও এবারের ঈদের কথা যেন তারা ভুলে গেছে বন্যার কারণে। যেখানে ঈদের দিন সকালে সেমাই খাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি, সেখানে কোরবানির মাংস তো তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন আর কিছুই না

দক্ষিণ ভগপতিপুর চরের বাসিন্দা ছালেয়া বেগম বলেন, বন্যায় বাড়ি-ঘর ভেসে যাওয়ায় আমরা এই গ্রামে এসে আশ্রয় নিছি। পানির জন্য এখন কোনো কামাই-রোজগার নাই। হামার স্বামীর কোনো জমিন নাই। বাড়ির লোকজন নদীত মাছ ধরে, ওগলে (ওইসব) দিয়া কোনোরকমভাবে চলছি। অভাবের জন্য কিছু করবার পাই না। হামার এই দেশে কোরবানি নাই। ঈদত হামরা কোরবানির গোস্তো (মাংস) খাইতে পারি নাই।

ওই গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম শেখ বলেন, আমাদের এই এলাকাটা অনেক হতদরিদ্র। এই এলাকায় কোরবানি যে কি জিনিস, গত কয়েক বছর জানি না। ঈদে এখানকার মানুষ কোরবানির মাংস খাইছে কি না আমি জানি না। তবে ধারণা করছি কেউ খেতে পারেনাই। শুনছি অন্যান্য এলাকায় বেসরকারিভাবে কোরবানির গরু দেওয়া হয়েছে। এই গ্রামে একটু সেমাই চিনিই দেয় নাই গরু দূরের কথা। গরুও নাই কোরবানিও হয় নাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মেম্বার রায়হান আলী মন্ডল বলেন, দক্ষিণ ভগপতিপুরের গুচ্ছগ্রামসহ প্রায় ১৫০টি পরিবারের বসবাস। এখানকার সবাই দিনমজুরের কাজ করে কোনোরকমে জীবন চালান। এই এলাকায় সচ্ছল পরিবার না থাকায় এখানে কোরবানি হয় না। কোরবানি না হওয়ায় এ বছরও তারা কোরবানির মাংস খেতে পারেনি।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বলেন, এ বছর বন্যার কারণে আমার ইউনিয়নের অনেক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর কথা চিন্তা করে বেসরকারিভাবে কয়েকটি স্থানে কোরবানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে দক্ষিণ ভগপতিপুর এলাকায় কোরবানির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। সমাজের দানশীল মানুষ এগিয়ে এলে হয়তোবা ওই চরের মানুষের মুখে একটু হাসি ফুটত

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 Bagha Sylhet
Theme Customized By Shakil IT Park